সুন্দরবনে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে এগিয়ে এলেন প্রতিবন্ধী কোকোনাট ম্যান - The News Lion

সুন্দরবনে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে এগিয়ে এলেন প্রতিবন্ধী কোকোনাট ম্যান

 


দি নিউজ লায়নঃ  তার একটা পা নেই,তা সত্বেও জীবন যুদ্ধে এগিয়ে চলছে প্রতিবন্ধী  সুকুমার সানা।২০০০ সালে তার শরীরের অঙ্গ থেকে তার একটি পা কেটে বাধ দিয়ে ছিল চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর জন্য।তারপর ভেঙে পড়ে ছিল সুকুমার সানা।জীবন ছন্দে ছন্দ পতন বয়ে চলছিল তার।ধীরে ধীরে তার জীবনে সঙ্গী হয়ে উঠলো ক্রাচ।আর এই ক্রাচের উপর ভর করে পরিবেশ কে ভালো বেসে তিনি আজ হয়ে উঠেছে সুন্দরবন জুড়ে কোকোনাট ম্যান।


গত ২৬ ও ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের তান্ডবে বিদ্যাধরী নদীর বাঁধের উপর প্লাসিটক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে ছিল এই প্রতিবন্ধী সুকুমার সানা।কেননা সুন্দরবনের বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ ভেঙে নোনা জল ঢুকে প্লাবিত হলে ভেসে যাবে গ্রামের পর গ্রাম।আর সেই সময় যখন সুন্দরবনের নদী গুলি জলোচ্ছ্বাসে ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করেছে তখনই পরিবেশ প্রেমি সুকুমার সানা ক্রাচের উপর ভর করে ছুটে চলেছে প্লাস্টিক নিয়ে বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ রক্ষার্থে।


তার এই মানব চেতনায় আজ মুগ্ধ সুন্দরবনবাসী।২০০০ সাল থেকে সুন্দরবনে  পরিবেশ  নিয়ে পথ চলা প্রতিবন্ধী সুকুমার সানা।গাছকে ভালো বেসে নিজেই একা একা বৃক্ষ রোপণের কাজ শুরু করে সুন্দরবনের বাসন্তী ব্লকের ঝড়খালি দ্বীপে সোদা মাটি নোনা জলের গন্ধে।নোনা বাতাসের গন্ধ একটু একটু করে ছড়িয়ে পড়েছে আজ সুন্দরবন জুড়ে।আর তার এই কাজে মুগ্ধ হয়ে এগিয়ে এসেছে ঝড়খালি দ্বীপের গ্রাম্য বধূরা।কখনও বিদ্যাধরী নদীর চরে ম্যানগ্রোভ গাছ চারা রোপণ।


আবার কখনও বিদ্যাধরী নদীর বাঁধে নারকেল গাছের চারা এবং তালের ব্রীজ রোপণ।আর এই নারকেল গাছের চারা রোপণ তিনি এখন হয়ে উঠেছে কোকোনাট ম্যান।সুন্দরবনের সোদা মাটির নোনা জলে উপযুক্ত পরিবেশ নারকেল গাছের চারা।যা অর্থকারী ফসল।এমনকি ভূমিক্ষয় ও বজ্রপাত রোধে নারকেল গাছ,তাল গাছ উপযুক্ত।আর সুন্দরবনের বজ্রপাত,ভূমিক্ষয় রোধে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার্থে প্রতিবন্ধী সুকুমার সানা নারকেল গাছের চারা এবং তালের বীজ রোপণ করতে শুরু করেছে।আর তার এই কাজে এগিয়ে এসেছে ঝড়খালি দ্বীপের গৃহবধূরা।


পাশাপাশি তাকে সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ঝড়খালি সবুজ বাহিনী ও বজবজের প্রত্যাশা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা।প্রতিবন্ধী সুকুমার সানা জানান ২০০০ সালে তার একটা পা কাটা পরে।তারপর ভেঙে পড়ে ছিলাম।সব কিছু জানো অন্ধকার হয়ে উঠে ছিল।তারপর নিজের মনকে শক্ত করে এই বৃক্ষ রোপণের কাজ শুরু করি।আর এই কাজ দেখে গ্রামের গৃহবধূরা এগিয়ে আসে।তবে সম্পূর্ণ ভাবে আমাকে সাহায্য করছে ঝড়খালি সবুজ বাহিনী ও বজবজের প্রত্যাশা স্বেচ্ছাসেবীর সদস্যরা।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.